Saturday, April 4, 2020

এটা কি আর এই যে আমি তো চাই এই

এটা কি আর এই যে আমি তো চাই এই

আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা একটা রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে। আমার দাদাভাই মাওলানা আব্দুল মান্নান ওয়াজেদী ছিলেন আমাদের এলাকার বিখ্যাত আলেমে দ্বীন, হাজারো আলেমের উস্তাদ, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ও উনার চাচা মৌলভী আব্দুর রহমানের হাতে গড়া বোয়ালিয়া বাতেনিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল।

দাদাভাই তার মেধা,নিরলস শ্রম,যোগ্য পরিচালনা ও নিষ্ঠা দিয়ে মাদ্রাসাটাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। একটানা ৪০ বছর তিনি মাদ্রাসাকে আগলে রেখেছিলেন পরম মমতায় সন্তান স্নেহে। আমাদের পুরো উপজেলায় এই মাদ্রাসা আলো ছড়িয়েছে।


ছোটবেলা থেকেই দেখতাম দাদাভাই বিভিন্ন ইসলামী জলসায় ওয়াজ করতে যেতেন। তিনি বিখ্যাত ছিলেন মোনাজাতের জন্য। উনার আবেগঘন দীর্ঘ মোনাজাতে মানুষ হু হু করে কেঁদে উঠত।


আমাদের মাদ্রাসাতেও বার্ষিক ওয়াজ হতো। ওয়াজের দিনটা ছিল আমাদের কাছে ঈদের দিনের মতো। বাড়িতে মজাদার খাবার রান্না হতো। দূর-দূরান্তের আত্মীয়রা সেদিন ওয়াজ শুনতে আসতেন।একটা আনন্দ-হিল্লোল পরিবেশ বিরাজ করত।

ওয়াজের আকর্ষণ থাকত ভারতের জৈনপুর থেকে আগত পীর সাহেব হুজুররা। উনারা যখন পালকিতে চড়ে আসতেন তখন আমাদের গ্রামের বাচ্চা-বুড়ো সবাই পালকির পিছু পিছু যেতেন। আমাদের মনে আনন্দ বিরাজ করতো।তাছাড়া ওয়াজ কে কেন্দ্র করে বাজার বসতো। মুরালি,চানাচুর চটপটি,নানা রকমের খেলনা পেয়ে আমাদের ছোট মন আনন্দে ভরে যেত।

আসরের পর ওয়াজ শুরু হলেও মূল বক্তারা ওয়াজ করতেন সন্ধ্যার পর।ওয়াজ চলত গভীর রাত পর্যন্ত।বাড়ির মহিলারা বিকালের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে মাগরিবের পরপরই ওয়াজ শোনার প্রস্তুতি নিতেন। পুরো এলাকায় একটা শান্ত ও পবিত্রভাব ছড়িয়ে পড়ত।

হুজুররা ওয়াজ করতেন। মানুষকে শুনাতেন ইসলামের মর্মবাণী। ওয়াজে থাকত নবী-রাসূলদের জীবনীভিত্তিক শিক্ষণীয় ঘটনা, সাহাবাদের জীবনকাহিনী ও ত্যাগের কথা,আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসার কথা,আল্লাহর মাহাত্ম্য, নামাজ, রোজা, হজ-যাকাত, ঈমান-আমল , কেয়ামত, কবরের আজাব, বেহেশত ও দোজখের কথা, হারাম, হালাল নিয়ে কোরআন ও হাদিসভিত্তিক শিক্ষণীয় আলোচনা।